বিজ্ঞানচিন্তা
ক্যাসিনি মানবজাতিকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। বিজ্ঞানীরা ক্যাসিনির মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন টাইটানের মিথেনের লেক, নদী আর সাগরের কথা, এনসেলাডাসের বুকে উষ্ণ প্রসবণের কথা, তার পৃষ্ঠের নিচে তরল পানির সাগরের কথা, শনির নতুন সব চাঁদের কথা, শনির বুকে বিশালাকারের ঝড়ের কথা, শনির বলয় আর তার বায়ুমন্ডলের মধ্যকার এক অসাধারণ এলাকার কথা। ক্যাসিনি যে তথ্য ও ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে, সেসব বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অজানা অনেক কিছুই জানতে পারবেন।
ক্যাসিনির পাঠানো প্রায় সাড়ে ছয়শো গিগাবাইট ছবি আর তথ্য ব্যবহার করে এপর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো হবে। বৈজ্ঞানিক অর্জনের কথা বাদ দিলেও, মানবজাতির ইতিহাসে ক্যাসিনির যাত্রা এক অভাবনীয় অ্যাডভেঞ্চার। মানুষ নিজে আন্তঃনাক্ষত্রিক যাত্রায় এখনো বের হয়নি ঠিকই, কিন্তু ক্যাসিনির প্রায় ৮ বিলিয়ন কিলোমিটারের যাত্রা আমাদেরকে অনুভব করতে শিখিয়েছে, অপূর্ব এই মহাবিশ্বকে চোখ মেলে দেখাটা শিহরণ জাগানিয়া। সাধারণ মানুষের কাছে যেমন, বিজ্ঞানীদের কাছেও ঠিক তেমন। ক্যাসিনির এই বিশ বছরের যাত্রা পৃথিবীর মানুষের মহাকাশবিজ্ঞানের জ্ঞানভাণ্ডারকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে, মানবজাতির ইতিহাসে মনে রাখার মতো এমন উদাহরণ নিঃসন্দেহে খুব কম।



