ফ্যালকন হেভি
২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। লঞ্চ কম্প্লেক্স 39, কেনাডি স্পেস সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথমবারের মতো উড়ে ছিল ফ্যালকন হেভি। ফ্যালকন হেভি স্পেসএক্সের তৈরি বর্তমান কালের সবচেয়ে ক্ষমতাশীল রকেট। ৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ১২.২ মিটার চওড়া এই রকেট ৬৩ হাজার ৮০০ কেজি ভর বহন করতে পারে। এর সাথে পরীক্ষামূলক ভর হিসেবে নিয়ে গিয়েছিল একটি গাড়ি, টেসলা রোডস্টার। পুরো রকেটটি ৩টি অংশ বিভক্ত। এর মোট ইঞ্জিন ২৭টি।
স্পেসএক্সের একটি বিশেষত্ব হলো,এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট। ফ্যালকন-9 এর ফার্স্ট স্টেজ রকেটগুলো ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট স্থানে অবতরণ করেছে। যার ফলে এগুলোকে পরবর্তীতে কাজে ব্যবহার করা যায়। ফ্যালকন হেভির ক্ষেত্রে উৎক্ষেপনের পরপরই মূল ইঞ্জিনটি স্থবির হয়ে থাকবে এবং দুইপাশের বুস্টারগুলোর জ্বালানি ব্যবহার করে রকেট ওপরে উঠে যেতে থাকবে। জ্বালানি শেষ হলে বুস্টারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পুনরায় মাটিতে ফিরে আসবে। এদিকে মূল ইঞ্জিন পুরোপুরি সচল হয়ে যাবে এবং রকেটটি সমান এগিয়ে যাবে।
ইলন মাক্স স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার আগে সবচেয়ে বেশি ভেবেছেন এর খরচ নিয়ে। বুস্টারগুলো পুনরায় ব্যবহার করতে পারার কারণে ব্যয় অনেক কমে যাচ্ছে। ইলন মাস্কের কথায়, প্রতি কেজি কার্গোর পেছনে খরচ মাত্র ১ হাজার ১০০$ ডলার নামিয়ে আনা হয়েছে। ১৪ হাজার ২০০ কেজি ভরের এই রকেটের প্রতি যাত্রায় খরচ পরে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার, অর্থ্যাৎ কেজি প্রতি ২৪ হাজার ৬৪০$ ডলার!



